বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ১০:২৭ অপরাহ্ন

আমিরের নির্দেশে আত্মগোপনে ছিল ৪ জঙ্গি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

ওয়াশিংটননিউজ ,ঢাকা,মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০২৩ : নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার দাওয়াতি শাখার প্রধান ও শুরা সদস্য আব্দুল্লাহ মায়মুন ওরফে মুমিনসহ (৩৪) চার জন তাদের আমিরের নির্দেশে আত্মগোপনে ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে র‌্যাব। সোমবার (৮ মে) রাতে সিলেটের বিমানবন্দর বড়শালা এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আব্দুল্লাহ মায়মুন সিলেটে অবস্থান করে কর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। গ্রেফতার চার জন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৯ মে) দুপুরে র‌্যাবের সিলেট সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেফতার চার জন হলো– সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ মায়মুন, ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের মো. আবু জাফর ওরফে জাফর ওরফে তাহান (৪০), চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মো. আক্তার কাজী ওরফে সাইদ ওরফে আইজল (৩৮) এবং গোপালগঞ্জে মুকসুদপুরের সালাউদ্দিন রাজ্জাক মোল্লা (৩২)।

তাদের কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা, ইলেক্ট্রিক ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সিলেটের বড়শালা এলাকার একটি বাসায় ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রায় ৬-৭ দিন ধরে অবস্থান করছিল।

র‌্যাবের হাতে এখন পর্যন্ত নতুন জঙ্গি সংগঠনটির ৭২ জন গ্রেফতার হয়েছে। এ ছাড়া এই সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং সহায়তার জন্য পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কেএনএফ’-এর ১৭ জন নেতা ও সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে যুক্ত ছিল আব্দুল্লাহ মায়মুন। সে সংগঠনটির সিলেট বিভাগীয় ‘মসূল’ বা প্রধানের দায়িত্বে ছিল। সংগঠনটির শীর্ষ নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জঙ্গি জিয়া তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতো। ২০১৯ সালে মায়মুন বগুড়ার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগও করেছে। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের শেষের দিকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিল। পরে জামিন বাতিল হলে আত্মগোপনে চলে যায়। মূলত সে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে নতুন সংগঠনটির যোগাযোগ করিয়ে সেতুবন্ধন করে দিয়েছিল। তার মাধ্যমেই নতুন সংগঠনকে ১৫ লাখ টাকা অনুদান দেয় আনসার আল ইসলাম।

এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠনে সশস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেকেই রয়েছে। তাদের মধ্যে উগ্রবাদী মনোভাব রয়েছে। সিলেট থেকে নিখোঁজ হয়ে আলোচনায় আসা রাজ্জাক নামে একজন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেছেন, রাজ্জাক সম্ভবত আফগানিস্তানে চলে গেছে। এ ধরনের লোক বাংলাদেশে এলে সেটি থ্রেট। র‌্যাব তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তার অবস্থান আসলেই আফগানিস্তানে কিনা সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে যেকোনও সময় যেকোনও নাশকতার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় নতুন জঙ্গি সংগঠনটির গড়ে তোলার পেছনে কাজ করা পুরনো সংগঠনগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সাঁড়াশি অভিযানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল পুরনো জঙ্গি সংগঠনগুলো। জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ থেকে কয়েকজন বের হয়ে নতুন সংগঠনটি গড়ে তোলে। সদস্য সংগ্রহ করে তাদের চট্টগ্রামের পাহাড়ে আবাসিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’

র‌্যাব এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ৫ হাজার সদস্যকে আইনের আওতায় এনেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৯ অধিনায়ক উইং কমান্ডার মো. মোমিনুল হক।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ