মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

তুঁত গাছের পাতা-ফল-বাকল ক্যানসার-হৃদরোগের প্রতিরোধক: গবেষণা

রিপোটারের নাম
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩

ওয়াশিংটননিউজ,  ঢাকা, শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩: তুঁত (Mulberry) এর আদিনিবাস চীনে। ভারত, বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে তুঁত চাষ হয়। বিশ্বজুড়ে তুঁতের ১২টি প্রজাতি রয়েছে। তবে আমাদের দেশে Morus nigra, Morus rubra Morus alba এই তিন প্রজাতির তুঁত গাছ পাওয়া যায়।

মূলত উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ তুঁত চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। দেশের পূর্বাঞ্চল ও পাহাড়ী অঞ্চলেও তুঁত চাষ হয়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে তুঁত গাছে ফুল আসে। ফল পাকে মার্চ-এপ্রিলে। দেশে উৎপাদিত তুঁত ফল বেশি সুস্বাদু।

২০১০ সাল থেকে একদল গবেষককে সঙ্গে নিয়ে তুঁতের ক্যানসার প্রতিরোধী ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করে আসছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. খুরশীদ আলম। গবেষণায় তাঁরা নিশ্চিত হন তুঁত ক্যানসার প্রতিরোধী। বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত গবেষণা এগিয়ে নেন তিনি।

রেশম পোকার পুরো জীবনচক্র আবর্তিত হয় তুঁত পাতায়। এর কারণ খুঁজতে গিয়েই তাঁরা পাতাটির অবাক করা পুষ্টিগুণ পান। একটা পর্যায়ে তাঁরা তুঁত ফল, বাকল ও মূল নিয়েও আলাদাভাবে গবেষণা করেন। সব অংশেই কম-বেশি প্রায় একই পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি এ গবেষণাপত্র প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী বায়োমেড সেন্ট্রাল রিসার্চ নোট। পরে আরেকটি গবেষণা নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘পোলস ওয়ান’- এ গবেষণাপত্র প্রকাশ পায়।

গবেষণায় উঠে এসেছে, তুঁত গাছের পাতা, ফল, বাকল এমনকি মূল সবই ওষধি গুণসম্পন্ন। কাজ করে ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি কিডনি রোগ প্রতিরোধক হিসেবেও।

গবেষণায় দেখা গেছে, সতেজ একটি ভুঁত পাতায় ৪ দশমিক ৭২ থেকে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ অপরিশোধিত প্রোটিন, ৮ দশমিক ১৫ থেকে ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ ফাইবার, ৪ দশমিক ২৬ থেকে ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ অ্যাশ, দশমিক ৬৪ থেকে ১ দশমিক ৫১ শতাংশ অপরিশোধিত চর্বি ও ৮ দশমিক শূন্য ১ থেকে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থাকে। এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা তুঁত পাতায় ১৬০ থেকে ২৮০ মিলিগ্রাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড ও বিটা ক্যারোটিন, ৪ দশমিক ৭০ থেকে ১০ দশমিক ৩৬ মিলিগ্রাম খনিজ লৌহ, দশমিক ২২ থেকে ১ দশমিক ১২মিলিগ্রাম দস্তা, ৩৮০ থেকে ৭৮৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ১১৩ থেকে ২২৪ কিলোক্যালরী শক্তি বিদ্যমান। পাতা এবং ফলের মত তুঁত গাছের বাকল এমনকি মূলেও যথেষ্ট পুষ্টি উপদান পাওয়া যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ